ফুটবল খেলায়ে মেতে উঠল অস্ট্রেলিয়া

Sydney Swans Supporters

আজ মন মেজাজ বেশ খুশি – কাল পরশু এমনিতেই ছুটি তার উপর সোমবার পাবলিক হলিডে – একেবারে টানা তিন দিন অফিস কাচারির ঝামেলা থেকে বেঁচে জাব। এ তিন দিনের ছুটির নাম – Grand Finals Long Weekend – গত তিন মাস ধরে ধারাবাহিক খেলা চলেছে সারা দেশ জুরে। এ সপ্তাহে তার চূড়ান্ত মীমাংসা। দুটো আলাদা প্রতিযোগিতা – AFL (Australian Football League) এবং NRL (National Rugby League). একটার কেন্দ্র মেলবোর্ন শহর আর অন্যটা সিডনীতে। দুই শহরের মধ্যে চিরকাল রেশারেশি এই সময় যেন আরো বেড়ে ওঠে। তার উপর এ বছরে দুই খেলাতেই প্রতিদ্বন্দ্বী দলের একটা সিডনীর আর একটা মেলবোর্নের। তাই দুই ক্লাবের খেলা থেকে এটা দুই শহরের যুদ্ধে পরিণত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কাল শনিবার খেলা হবে বিখ্যাত মেলবোর্ন স্টেডিয়াম ময়দানে ১০০,০০০ জনতার সামনে (AFL Grand Final 2012: Sydney Swans vs Hawthorn Hawks).দুই দলের সমর্থক থাকবে তাদেরে পতাকা উড়িয়ে মাঠে গিয়ে তাদের দলকে জিতের মুখ দেখাবার আশায়ে। যারা মাঠে জেতে পারবে না তারা ক্লাবে বা ঘরে জমে যাবে টিভির সামনে। দলের সমর্থকেরা তাদের গাড়ি সাজিয়ে ঘুরে বেরিয়েছে সারা সপ্তাহ, কাল হবে চূড়ান্ত ফয়সালা। সকালের রেডিয়তে খেলার আগে বিশেশগ্যদের নানা মত শুনলাম – কে জিতবে বলা যাচ্ছে না। তবে আশা করছি সিডনী জিতুক। ABC drivetime host এ দলের অন্ধ সাপরটার, তার প্রোগ্রামের শেষে তার জয়ের গান বাজিয়ে রেডিয়তে Cheer, cheer the red and the white, Honour the name by day and by night, ………………. Swans will go ……… Onwards to victory ইত্যাদি ইত্যাদি। সব পাগল!! আমি চাই সিডনী জিতুক – কাল বাড়িতে লোক আসবে – সবাই মিলে হইচই করে সিডনীকে জেতাতে হবে…। এ খেলার এলাহি প্রস্তুতি চলেছে দেশ জুরে। অফিস কাছারি কিম্বা রেস্তোরাঁতে বসে লোকের মুখে হচ্ছে দুই দলের খুটি নাটির বিচার ও সমালোচনা। হাজার হাজার ডলার বাজী পরেছে খেলার ফলাফলের উপরে। অনেকেই সিডনী ছেরে মেলবোর্নের প্লেন টিকিট কেটে চলে যাবে খেলা দেখার উৎসাহে। খেলার শেষে শোনা যাবে এক শহরে উলুধ্বনি আর অন্য শহরে ফেটে পরবে মর্মান্তিক হাহাকার।

রবিবারের আষোড় জমবে সিডনীর বিখ্যাত তেলস্ট্রা স্টেডিয়ামে – খেলবে আবার দুই শহরের প্রতিনিধি দল। সিডনীর বুলডগ বনাম মেলবোর্নের স্টড়ম। (NRL Grand Final 2012: Canterbury Bulldogs vs Melbourne Storm). লক্ষ্য করবেন এ দেশের দলেরা সবাই একটা জন্তু অবতার ধারণ করেছেন – কেউ কুকুর, কেউ ঈগল, কেউ রাজহাঁস, কেউ বাঘ, এরকম আরো কত কি। মেলবোর্নের স্টড়ম একটু উল্টো ওদের চিহ্ন ঝরের সাথে বজ্রাঘাত। চিহ্ন জরদার হলেও এর এক অন্য অর্থ আছে। সিডনীর অনেক গুনের মধ্যে একটা নিয়ে আমাদের বেশ গর্ব, এখানে আবহাওয়া বড় সুন্দর, বছরের বেশীর ভাগটাই ঝলমলে রোদ্দুর, ঠাণ্ডা পরলেও তা হাঁর কাঁপানো বলা চলে না। মেলবোর্নের ব্যাপার অন্য – ওদের ওখান সব সময় একটা স্যাঁতস্যাঁতে ভাব লেগে আছে। সপ্তাহে আরধেক দিন বৃষ্টি। তাই ওদের দলের চিহ্ন যে বিদ্যুৎ সহ বজ্রপাত হবে এতে আমরা আশ্চর্য হই না। তবে ওদের দল খেলে ভাল। হাড্ডাহাড্ডি খেলা হবে এটাই আমারা চাই। ওরা ভাল খেলুক কিন্তু শেষ জিত যেন আমাদেরই হয় এটাই আমাদের প্রার্থনা।

তাই এবার দুই দিন ধরে সারা দেশ জুরে ফুটবলের জয়জয়াকার – আবার এখানেও মজার ব্যাপার দেখুন। খেলাকে বলে ফুটবল কিন্তু খেলাতে হাত পা দটুওই চলে। আসল ফুটবল বলতে আমরা জা বুঝি এরা সেটাকে বলে সকার। তার উপরে আর মুশকিল – দুই পক্ষ নিজেদের খেলা ফুটবল নামে ডাকে – তাই একি আসরে যখন দুই ধাঁচের ফুটবলের চর্চা চলে তখন একটাকে বলে অসি-রুলস আর অপরটা রাগবি লিগ। যাকগে সবাই ভাল থাকলেই ভাল। খেলার জন্য ছুটি পেয়েছিলাম সেই ছোট বয়সে একবার হেডমাস্টার স্কুল ছুটি দিয়েছিল ইন্ডিয়া ক্রিকেট জেতার সুবাদে। তবে এ দেশের ব্যাপার আলাদা – এরকম ধারাবাহিক সারা দেশের ছুটি ফুটবল খেলা দেখার জন্য আর কথাও আছে কিনা বলতে পারব না।

Advertisements

2 Comments Add yours

  1. jay sanyal says:

    mojar byapaar. Onekta US-er superbowl-er moto reshareshi aar unmadona

    Like

  2. surjagupta says:

    ঠিক তাই – ওখানে ফুটবল দেখবার জন্য এক দিন বারতি ছুটি পাওয়া যায় কি?

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s